Ebook Review - বই রিভিউ

গভীর ভালোবাসার গল্প – সুন্দর রোমান্টিক ভালবাসার গল্প – সেরা ভালোবাসার ছোট গল্প – খুব কষ্টের ভালোবাসার গল্প

পাঠকদের জন্য আনলাম সেরা ভালোবাসার ছোট গল্প, নিউ ভালোবাসার গল্প, খুব কষ্টের ভালোবাসার গল্প কালেকশন. নতুন রোমান্টিক গল্প হঠাৎ বিয়ের রোমান্টিক গল্প.

“আমাকে ভালোবাসেন তাই না? ভালো না বাসলে একটা মেয়েকে দেখার জন্য রোজ রোজ এখানে বসে থাকতেন না। আপনাকে আমি প্রতিদিনই দেখি, দেখে ভদ্র ঘরের ছেলে বলেই মনে হয়। ঐ যে গলিটা দেখছেন না? সেই গলি দিয়ে একটু এগিয়ে গেলেই দেখবেন গেটে লেখা “অবন্তী নিবাস” অবন্তী নামটা আমারই, সেখানেই থাকি আমি। বাবা রোজ এই পথ দিয়েই যাওয়া আসা করে। কাল আমার কাছে জানতে চাইলো আপনারা আমাকে কোনো প্রকার বিরক্ত করেন কিনা। জানেন তো আমার বাবা কী করে? থানায় যে নতুন অফিসার এসেছে তিনিই আমার বাবা। এখানে বসে থাকবেন না। কাছে কলম আছে?”

নীল মাথাটা একবার ডান পাশে আরেকবার বাম পাশে নাড়ায়। মেয়েটা আবার বলতে শুরু করে,
– থাক তার আর দরকার পড়বে না, শুধু মনে রাখলেই চলবে। আমি রোজ নয়টায় টিউশনে যাই, কোথায় সেটা আপনি জানেন কারণ আমি দেখেছি বেশ কয়েকবার আপনি আমার পিছু নিয়েছিলেন। বাইকটা বন্ধুর ছিলো তাই না?

এবারও মুখে কোনো কথা না বলে কেবল মাথা নাড়ায় নীল। মেয়েটা বলতে শুরু করে,

– জানি, কারণ একটা ছেলের কাছ থেকে বাইকের চাবি নিতে দেখেছি একদিন। তাই ধরেই নিয়েছি বাইকটা আপনার না। সকালে যেখানে টিউশন করতে যাই সেখানেও এমন একটা টঙয়ের দোকান আছে। সকালটা সেখানেই দাড়াবেন। সেখানে বাবা যায় না। তাছাড়া আমার কলেজও তো চেনেন আপনি, কারণ কলেজের গেটেও আপনাকে বেশ কয়েকবার দাড়িয়ে থাকতে দেখেছি। দাড়াবেন, সুযোগ পেলে কথা বলবো। প্রথম প্রথম ভয় ভয় করবে আমার, তাই আপনাকেই একটু কষ্ট করতে হবে। পরে সব ঠিক সামলে নিতে পারবো। ততদিন আপনাকেই একটু দৌড়াদৌড়ি করতে হবে। আপনি তো এখনও বেকার তাই না?

এবারও মাথা নাড়ালো নীল। উত্তরের অপেক্ষা না করেই মেয়েটা আবার বলতে শুরু করলো,
– জানি, কারণ যে ছেলে সারাদিন এখানে বসে থাকে সে আর যাই হোক বেকার না হয়ে যায় না। এখানে বসে থাকবেন না, সেই সময় টুকু একটা চাকুরির খোজ করবেন। আপনাকে দেখে শিক্ষিত বলেই মনে হয়। যদিও চাকুরি খুব সহজ নয় আজকাল তবুও চেষ্টা করবেন। মনে রাখবেন মেয়েরা প্রেম করার জন্য বেকার ছেলে পছন্দ করলেও বিয়ে করার সময় একটা জিনিসই লক্ষ্য করে সেটা হলো ছেলেটা কোনো কাজ করে কিনা। সে কাজ যত ছোটোই হোক তবুও মেয়েরা চায় না কোনো বেকার ছেলেকে বিয়ে করতে। আর যারা চায় তাদের দলে আমি নয়। আজ আমি যাই।
কথাগুলো বলে চলেই যাচ্ছিলো মেয়েটা, হঠাৎ আরেকবার পিছন ঘুরে বললো,
– আর একটা কথা, কখনোই পিছু নিবেন না। মেয়েদের পিছন পিছন ঘোরা আমি একদম পছন্দ করি না। যা বলার সামনা-সামনি বলবেন। আর হ্যাঁ আমার ফোন নেই, বাবা বলেছে কিনে দিবে। আজ যাই, যা বললাম মনে রাখবেন।
.
প্রথম কথাগুলো দাড়িয়ে বললেও শেষ কথাটা বলতে বলতে অনেকখানি এগিয়ে গেলো মেয়েটা। আর পিছন ফিরে তাকালো না। নীল তখনও ঠাঁই দাড়িয়ে রইলো একই জায়গায়। দেখতে দেখতে মেয়েটা ঢুকে পড়লো গলিটার ভেতর। মেয়েটা চোখের আড়াল হতেই টঙয়ের দোকানটার দিকে এগিয়ে গেলো নীল। তারপর দোকানের সামনে পাতানো একটা বেঞ্চের উপর বসতে বসতে বললো,
– মামা, একটা চা ধরেন তো।
.
মেয়েটা রোজই এই পথ দিয়ে যাওয়া আসা করে। কখনো কখনো আড় চোখে তাকায় টঙ দোকানটার দিকে। দাড়ায় না। নীল কোনো কোনো দিন বাইক নিয়ে পিছু পিছু যায়, কখনো বা জোরে বাইক চালিয়ে মেয়েটা যেখানে টিউশন করতে যায় সেখানকার টঙয়ের দোকানটায় গিয়ে দাড়ায়। কখনো বা কলেজের গেটের সামনে। আজকের আগে মেয়েটার সাথে কথা হয়নি নীলের, কথা তো দূর মেয়েটার নাম যে অবন্তী সেটাও জানা ছিলো না ওর। কেবল দেখতো মেয়েটাকে। সেটাও খুব বেশি সময়ের জন্য নয়। কিন্তু এই এক পলকের দেখায় যেনো নীলের ভেতরটা চঞ্চল হয়ে উঠে। অপেক্ষা করে আবার কখন দেখা মিলবে মেয়েটার। সামনা সামনি কথা বলার সাহস হয়নি কখনোই। নীল জানে মেয়েটা এই মহল্লায় এসেছে মাস খানেক হলো। চেনা নেই জানা নেই একটা অচেনা অজানা মেয়ের সাথে হুট করেই তো আর কথা বলা যায় না। আর বললেই বা কী বলবে সে? বলবে যে,
আপনি এখানে নতুন, আপনার কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো? তাছাড়া আমরা এই মহল্লার ছেলে, যদি কোনো সমস্যা হয় তাহলে জানাবেন। এইসবই বলবে? এখনকার দিনে এইসব বলা সাজে না। তার চেয়ে বরং যেভাবে চলছে চলুক।
আজও সকাল থেকে টঙয়ের দোকানটায় বসে ছিলো নীল। সে জানে মেয়েটা ঠিক নয়টায় বের হয় বাসা থেকে। যদিও বাসা সে চেনে না, আসলে বাইক নিয়ে পিছু বেশ কয়েকবার নিয়েও বাসার দিকটায় যেতে সাহস হয়নি কখনো। তবে মেয়েটা যে খুব বেশি দূরে থাকে না সেটা বুঝতে পারে, কারণ একবার রাস্তা ছেড়ে গলিতে ঢোকার একটু পরই বাইক নিয়ে গিয়েছিলো নীল। এটা তার নিজের এলাকা, ছোট থেকেই মানুষ হয়েছে এখানেই, সে যেতেই পারে। সে তো আর কোনো মেয়ের পিছু নিচ্ছে না। এমনটাই ভাবে গিয়েছিলো, মেয়েটাকে আর দেখতে পায়নি। হয়তো আশেপাশেই কোনো এক বাসাতে ঢুকে পড়েছিলো মেয়েটা।
.
প্রতিদিনের মতই মেয়েটা নয়টার দিকে গলি থেকে বের হলো। মেয়েটা বের হতেই যেনো বুকটা ধুকধুক করতে শুরু করে নীলের। না এটা ভয়ে নয়, কোনো এক অজানা সুখের অনুভুতি বলা চলে। পছন্দের মানুষটা সামনে আসলে নাকি এমনটা হয়। বন্ধুদের কাছ থেকে সে বেশ কয়েকবার শুনেছে কথাটা। নীল কথাটা শুনে দুই একবার বলেও ছিলো যে, ভালোবাসায় সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা দরকার সেটা হলো সাহস। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে নিজের ক্ষেত্রে তেমনটা হলো না। নীল এখন বোঝে, অন্যের ক্ষেত্রে যে কথাটা বলা খুব সহজ, সেই কাজটাই নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা ততটাই কঠিন। এমনই হাল হয়েছে ওর। মেয়েটা গলি পথ ছেড়ে রাস্তায় উঠতেই ওর ভেতর একটা অজানা ভয় কাজ করে। ঠিক ভয় বলা উচিত হবে কী? আসলে সেই সময়ে ওর ভেতরে যা চলে সেটাকে প্রকৃতপক্ষে কী বলা যায় সে নিজেই জানে না। তবে মনে একটা প্রশান্তি আসে বটে। যদিও সেটা খুবই সামান্য তবুও সেই সামান্য প্রশান্তিটুকুর সময় ওর প্রতিক্ষার অবসান যেনো কাটে না।
.
অপেক্ষা আর প্রতিক্ষা দুইটা দুই জিনিস। অপেক্ষা যা এক সময় ফুরিয়ে আসে। কিন্তু প্রতিক্ষা? সে তো ফুরোবার নয়, ঠিক যেমন দাড়িয়ে থাকা বটবৃক্ষের মত। পায়ে হাজারও শিঁকড় গজায়। মনে একটাই আশা, মানুষটা আসবে, হুমম ঠিক আসবে। অপেক্ষার প্রহরের ন্যায় প্রতিক্ষার প্রহরও ফুরােই। মেয়েটা আসে, সেই এক পলকের দেখায় যেনো মনে বইয়ে দিয়ে যায় বসন্তের স্নিগ্ধ শীতল হাওয়া। তাকিয়ে থাকে নীল, ঠিক যেনো বাংলা গানের মত, “পড়ে না চোখের পলক কী তোমার রুপের ঝলক।” তবে এই মেয়েটি কিন্তু আহামরি সুন্দর নয়। তবে আমাদের দেশে একে অসুন্দরও বলার সাহস রাখে না কেউ।
.
প্রতিদিনের মত আজও মেয়েটা মাথা নিচু করে হেটেই যাচ্ছিলো। কিন্তু টঙয়ের দোকানের সামনে আসতেই থমকে দাড়ালো। মেয়েটা দাড়াতেই নীলের বুকের হৃদপিণ্ডটা যেনো দ্বিগুণ হারে বাড়তে লাগলো। দাড়িয়ে মাথা নিচু করেই কি যেনো ভাবলো। ঠিক যেমন ঝড়ের পূর্বে আশপাশের পরিবেশটা থমথমে নিস্তব্ধ হয়ে যায়। কয়েক সেকেণ্ড পর মাথা তুললো মেয়েটা। তারপর ধীরে ধীরে তাকালো টঙয়ের দোকানের দিকে। তারপর গলাটা একটু উচিয়ে বললো,
– এই যে কালো শার্ট, হ্যাঁ হ্যাঁ আপনাকেই বলছি।
কথাটা বলেই হাতের ইশারায় ডাকলো মেয়েটা। মনে হলো হৃদযন্ত্রটা কয়েক সেকেণ্ডের জন্য থেমে গেলো। কিন্তু সে তো কোনো অন্যায় করেনি। তাছাড়া বাইক নিয়ে কোনো মেয়ের সামনে দিয়ে গেলেই তো তাকে বিরক্ত করা বলা না। যদিও কয়েকবার পিছু নিয়েছে কিন্তু কথা তো বলেনি। তাছাড়া লোকের কাজ থাকতেই পারে। আর সে কাজে গিয়ে এক জনের সাথে বার বার দেখা হওয়াটাও দোষের কিছু কী? নাহ্ দোষের কিছু বলে তো মনে হয় না। তাছাড়া মেয়েটা যে কলেজে পড়ে নীল নিজেও সেই কলেজ থেকেই লেখাপড়া শেষ করেছে। তাই হঠাৎ করে কলেজে কোনো কাজ লেগে যেতেই পারে। এমন নানান যুক্তি আওড়াতে আওড়াতে নীল যখন মেয়েটার সামনে গিয়ে দাড়ালো তখন অতিরিক্ত কোনো কথা বলে সময় নষ্ট না করেই কথাগুলো বললো মেয়েটা।
.
রাত আনুমানিক বারোটা। হাজার চেষ্টা করেও যখন ঘুম আসলো না তখন এক প্রকার বাধ্য হয়েই ছাদে গেলো নীল। চাঁদের আলো ছড়িয়ে আছে ছাদের কোণায় কোণায়। পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা বের করে তাতে লাইটারের আগুন ছোয়াতেই যেনো প্রান ফিরে পেলো বস্তুটা। মুহূর্তের মধ্যে নিকটিকের গন্ধ ভরে উঠলো চারিপাশটা।
.
নীল ভাবতে শুরু করে, এখন যেহেতু রাত তাহলে তখন দিনই ছিলো। আর দিনের বেলা সে ঘুমায় না কখনোই, আর জেগে জেগে তো আর স্বপ্ন দেখা যায় না। মানে মেয়েটা আজ সত্যিই ওর সাথে কথা বলেছে। মানে সেটা স্বপ্ন নয় বাস্তব। কিন্তু তবুও যেনো বার বার মনে হচ্ছে, বাস্তব নয় বরং স্বপ্নই ছিলো।
ঐদিকে অবন্তীরও চোখে ঘুম নেই। সে তো এমনটা ছিলো না। বরাবরই সে ভীতু আর শান্ত মেয়ে। কোনো অপরিচিত ছেলে তো দূরের কথা পরিচিতদের সাথেও কথা বলতে বেশ বেগ পেতে হয় ওকে। কিন্তু আজ যা ঘটলো তার ব্যাখ্যা সে কীভাবে দিবে? জানা মতে এতটুকুও ভয় আর সংকোচ কাজ করেনি ছেলেটার সাথে কথা বলার সময়। ওর যতদূর মনে পড়ে ছেলেটাই বরং চুপ চাপ শুনে যাচ্ছিলো। একটা কথা পর্যন্ত বললো না। তবে কী ভালোবাসা বদলে দেয় মানুষকে? কিন্তু ভালো তো সে বাসে না ছেলেটাকে। এটা সত্যি যে ছেলেটাকে তার ভালোই লাগে। ছেলেটা আর দশটা ছেলের মত নয় মোটেও। যদিও সে নিজেও জানে ছেলেটা তাকে দেখার জন্য বসে থাকে। কয়েকবার টিউশনের জায়গাটাও গিয়েছিলো, জানালা দিয়ে দেখেছিলো অবন্তী টঙয়ের দোকানটায় বসে বসে সিগারেট টানছিলো ছেলেটা। যদিও সিগারেট একদমই পছন্দ করে না অবন্তী তবুও ছেলেটাকে তখন ভালোই লেগেছিলো। কয়েকবার তো কলেজের গেটেও দেখা হয়েছিলো, অবন্তীকে দেখেই তাড়াহুড়ো করে সিগারেটটা ফেলে দিয়েছিলো ছেলেটা। ছেলেটার এমন কাণ্ড দেখে বেশ হাসিই পাচ্ছিলো সে সময়। কিন্তু হাসেনি, পরে অবশ্য বাসায় ফিরে বেশ খানিকটা হেসে নিয়েছিলো। কেমন যেনো একটা ভালোলাগা কাজ করছিলো সে সময়ে। তাই তো বাবা যখন বললো কথাগুলো তখন সে কখনোই চায়নি যে বাবার চোখে বখাটে খেতাব পাক ছেলেটা। যদিও তার এতে খারাপ লাগার কথা ছিলো না। তবুও খাবার লেগেছিলো। কেনো লেগেছিলো সে জানে না। তবে কী ভালোবাসা বলে এটাকে? নাকি প্রেম?
.
অবন্তী জানে প্রেম আর ভলোবাসা দুইটা দুই জিনিস। প্রেম হলো কিছু দেখলাম খুব ভালো লাগলো, সেটাকে পেতে মনে চায় বড্ড। না পেলেও খুব একটা ক্ষতি নেই। যদিও প্রেমে না পড়লে ভালোবাসা যায় না। তবুও ওর কাছে ভালোবাসা হলো অন্য এক জিনিস। যদিও তার মাথায় আসে না এর অর্থ তবুও সে জানে, যাকে ভালোবাসা যায় তাকে হারানো যায় না। আর যদি হারিয়ে যায় তবে….. এর পর যে কী সেটা জানে না অবন্তী। তবে একটা কথা সে জানে কোনো পরিবারই চাইবে না তার মেয়েটাকে কোনো বেকার ছেলের হাতে তুলে দিতে। সে জন্যই কী তখন ছেলেটাকে সেসব কথা বলেছিলো অবন্তী?
আয়নার সামনে দাড়িয়ে কথাগুলো ভাবতে ভাবতে চেহারাটা লজ্জায় লাল হয়ে উঠে বার বার। আয়নার সামনে থেকে সরে আসে। মনে মনে ভাবে,
কাল ঠিক আসবে ছেলেটি, ওর নিজেরই দেখানো জায়গায় টঙয়ের দোকানদার সামনে। হয়তো একটু আগেই আসবে। আর এসেই হয়তো দোকানদারের কাছ থেকে একটা সিগারেট চেয়ে নিবে। অবন্তীকে দেখে হয়তো আবার সেটা তাড়াহুড়ো করে ফেলেও দিবে। ওর হয়তো তখন খুব হাসি পাবে, তবে সে হাসবে না। সে হাসবে বাসায় এসে, দরজা বন্ধ করে।
.
অবন্তীর ভাবনায় কিন্তু সত্য হলো, ছেলেটা হয়তো অনেকক্ষণই এসেছে। এসেই হয়তো চেয়ে নিয়েছে একটা সিগারেট। যা এখনো কিছুটা বাকি। কিন্তু সেই বাকি অংশ আর টান দিলো না ছেলেটা। ওকে দেখেই তাড়াতাড়ি ফেলে দিলো পায়ে নিচে। অবন্তী না চাইতেও মুখ টিপে হাসে, ছেলেটা তাকিয়ে থাকে, কিছু বলে না।
.
ফেরার পথেও দেখলো ছেলেটা সেখানেই দাড়িয়ে আছে। অবন্তী কাছে গিয়ে একটু কথা বলতে চেয়েও থেমে যায় মাঝপথেই। ছেলেটার পিছনে যত্ন করে হাতের আড়াল করা সিগারেটটা চোখ এড়ায় না অবন্তীর। অবন্তী হাসে, হাতে আড়াল করা সিগারেটটা বিনা টানে পুড়ে যায়। টান আর দেওয়া হয় না, অবন্তী চলে যাওয়ার পরও ঘোর থাকে বেশ ক্ষণ। হুশ ফেলে টান বিহীন পুড়ে যাওয়া সিগারেটের ছোয়ায়। হাত থেকে পড়ে যায় জলন্ত সিগারেটের ফিল্টার। মেয়েটা ততক্ষণে চোখের আড়ালে চলে যায়। নীল তবুও তাকিয়ে থাকে সেদিকে। মনে হয় ফিরে আসবে বোধহয় আবার। আবার হাসবে মুখ টিপে। বলবে, বাকি পথ টুকু না হয় এক সাথে হাঁটা যাক?
বলে না, চোখের আড়াল হয়ে যায় অবন্তী।
.
.
– টিকিট টা?
.
কথাটা কানে যেতেই ঘোর কাটে নীলের। জানালার বাইরে থেকে চোখটা সরিয়ে নিতেই দেখে কালো কোট পড়া একটা লোক দাড়িয়ে আছে কামড়ায়। টিটি। লোকটা আবার বলে,
– টিকিট টা।
.
প্যান্টের পকেট থেকে ভাজ করা টিকিটটা এগিয়ে দেয় লোকটার দিকে। লোকটা সেটা ভালো করে পরিক্ষা করে বলে,
– পরের স্টেশনে ট্রেনটা একটু দাড়াবে। রাস্তার কাজ চলছে, আধঘন্টা পর আবার ছাড়বে।
.
কথাটা বলেই কামরা থেকে বেরিয়ে যায় লোকটা। নীলের চোখটা আবারও খোলা জানালার দিকে যায়। সবকিছুই যেনো ছুটছে, ঠিক তারই মত। একা।
.
আবারও আস্তে আস্তে চোখটা বুজে আসে ওর। ভেসে উঠে পুরোনো স্মৃতিগুলো। অবন্তী মুখ টিপে হাসে। বলে,
– কাল ওমন করে দাড়িয়ে ছিলেন যে? পিছু নিতে বারণ করেছি বলে কী সে নিয়ম ভাঙতে নেই?
.
নীল কোনো কথা বলে না, কেবল হাসে। কিছুক্ষণ পর প্রশ্ন করে,
– আজ নিবো পিছু?
.
অবন্তী হাটা শুরু করে, হাটতে হাটতে একবার পিছন ফিরে তাকায়। নীলের চোখে তখনও প্রশ্নটা। মেয়েটা হাটতে হাটতেই পিছন ঘুরে একবার মাথা দোলায়। দ্রুত পায়ে এগিয়ে যায় মেয়েটার দিকে। পাশাপাশি হেটে চলে দুইজন। কথা বলে না। গলি পথটার কাছাকাছি যেতেই মেয়েটা সর্তক হয়ে উঠে, নিচু স্বরে বলে,
– কাল টিউশনে যাবো না, কলেজের কাছটায় দাড়াবেন। ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার অভ্যাস নেই যদিও তবুও কালকে দিবো।
.
একটু তাড়াতাড়িই সেদিন কলেজ গেটের সামনে গিয়ে দাড়ায় নীল। মেয়েটা অবশ্য সময়ের আগে আসেনি। কিন্তু যখনই এসেছে সাথে করে এক চিলতে প্রশান্তির রেশ নিয়ে এসেছিলো। যা এসে লেগেছিলো নীলের ঠিক বা’পাশে। বলেছিলো,
– আপনাকে না আমি অনুভব করতে পারি। আপনি পাশে না থাকলেও । পাশে থাকলে ভয় করে। দূরে গেলে সে ভয়টা আর আসে না, বরং কাছে টানার আকুতি জাগে মনে। চাকুরির চেষ্টা করছেন তো? আমি কিন্তু ওদের দলে নয়।
.
নীল মাথা নাড়ায়। বলে,
– কালকে একটা ইন্টারভিউ আছে। বলেছে হবে।
কথাটা শুনে অবন্তীর মুখে একটা হাসির রেখা ফুটে উঠে। বলে,
– সময়টা হোক অল্প তবুও যখন চাই পুরোটা জুড়েই কেবল আপনাকেই চাই। পাবো তো?

কথাটা বলতে বলতে একবারের জন্য গলাটা হালকা কেঁপেই উঠেছিলো মেয়েটার। নীল প্রথম বারের মত হাতটা ধরেছিলো অবন্তীর। আর তাতেই যেনো কম্পনটা আরও বেড়ে গেলো চোখটা বুজে উঠে আয়েশে। নীল কানে কানে ফিসফিস করে বলে,- পুরোটা জুড়েই।

চাকুরিটা কিন্তু হলো না। খবরটা যখন পরেরদিন নীল অবন্তীকে বললো, অবন্তী হাসলো একটু। তারপর সেই হাসি মাখা কণ্ঠেই বললো,
– হয়নি, হবে। চেষ্টাটাই আসল।
.
অবন্তীর এই কথা কিন্তু সত্যিই হলো। পর পর কয়েকবার চেষ্টা করার পর অবশেষে যখন সোনার হরিণ নামক চাকুরিটা মিললো তখন ওদের প্রনয় আরও বেড়েছে। এক জনের প্রতি আরেকজনের যে টানটা আগে খানিক খাপছাড়া ছিলো, সে খাপছাড়া ভাবটা কেটেছে পুরোপুরি ভাবে। মেয়েটা হয়ে উঠেছে সাহসী, আর রিকশায় ঘুরতে ভয় করে না মোটেও। রিকশায় উটে হুটটা টেনে দিয়ে নীলের কাঁধে মাথা রাখতেও হয় না এতটুকু সংকোচ।
.
ভালোবাসা যখন এমনই দুর্নিবার গতিতে বাড়ছিলো ঠিক তখনই নীল একদিন বললো,
– চাকুরিটা হয়েছে অবন্তী। এক তারিখ থেকে জয়েন তবে তার আগে ওরা পনেরো দিনের একটা টেনিং করাবে। সেটাও শহরের বাইরে। কী করবো বুঝতে পারছি না।
.
কথাটা শুনে অবন্তীর মনটা একটু দমে গেলো বটে। যে মানুষটার সাথে একটা দিন দেখা না হলে মন থাকে ঊদাস, কথা না বললে মনটা ছটফট করে তাকে ছাড়া থাকতে হবে পনেরোটা দিন? বাবাকে বেশ কয়েকবার একটা ফোনের জন্য তাগাদা দিয়েছে অবন্তী। বলেছে দিবে। অবন্তী বললো,
– শুনেছি দুরত্ব ভালোবাসা কমায়। মাঝে মাঝে হারিয়েও যায়, কথাটা ভুল প্রমাণিত করবে?
কথাটা বলতে বলতে নীলের কাঁধে মাথা রাখে অবন্তী। নীল একটা হাত রাখে ওর বাহুতে। তারপর শক্ত করে চেপে ধরে বলে,
– করবো।
.
সেদিন প্রথম মেয়েটাকে কাঁদতে দেখেছিলো মেয়েটাকে। মনে হয়েছিলো অবন্তীর চোখে কান্নাটা ঠিক মানায় না। হাসিতে ওকে আরও বেশি সুন্দর লাগে।
.
কথাটা রাখা হয়নি নীলের। দুরত্ব বাড়েনি মোটেও কিন্তু চিরোদিনের জন্যই হারিয়ে ফেলেছে মেয়েটাকে। পনেরো দিন পর ফিরে এসে আবিরের মুখে শোনে কথাটা। নীল যাওয়ার তিন চার দিন পর হঠাৎ করেই অবন্তীর বাবার হার্ট ফেল করলে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও লাভ হয়নি। তারপর আর কিছুই জানে না কেউ। সবার ধারণা স্বামীর মৃত্যুর পর অবন্তীর মা গ্রামে ফিরে গেছে। কথাটা শুনেই নীল দৌড়ে গিয়েছিলো অবন্তী নিবাস বাসাটার সামনে। নেম প্লেটটা নেই। কেবল একটা নতুন টু-লেট ঝুলছি জায়গাটায়। বড় বড় অক্ষরে লেখা “বাসা ভাড়া দেওয়া হবে।”
.
এর পর নীল অনেক খুজেছে অবন্তীকে। থানায় গিয়েও খোজ নিয়েছে। একজন অচেনা অজানা মানুষকে ঠিকানা দিতে রাজি হয়নি ওরা। কিন্তু অনেক চেষ্টার পর নীল যতদিনে সেই ঠিকানায় গিয়ে পৌছালো ততদিনে সেখানকার জায়গা জমি বিক্রি করে ওরা চলে গেছে। কোথায় গেছে কেউ জানে না।
.
সেদিনের পর আর অবন্তীর দেখা পায়নি নীল। জীবন তবুও থেমে নেই, থেমে থাকে না। চলছে, তাকে চলতে দিতে হয় বাঁচার তাগিদে, কখনো কখনো স্মৃতিগুলো বয়ে বেড়াবার তাগিদেও জীবনকে চলতে দিতে হয়। মোট কথা বাঁচতে হয়। নীলও বেঁচে আছে। চলছে তার জীবন, জীবনের নিয়মে। কিন্তু ট্রেন থেমে গেলো। ট্রেনটা যে পরের স্টেশনে এসে থামবে সেটা সে আগেই জানতো। তখন টিটি টিকিট দেখতে এসেই বলে গেছে। ট্রেন থামতেই ভাবনাগুলো উবে গেলো কিছুক্ষণের জন্য। লাইনের কাজ চলছে, যদিও যাত্রীদের বলা হলো মাত্র তিরিশ মিনিট তবে এর বেশি সময় লাগলো মোটেও অবাক হওয়ার কিছুই নেই।
.
ট্রেন থেকে নেমে পড়ে নীল। একটু অন্যমনস্ক ভাবেই নামছিলো হয়তো। আর তাই তো ভদ্রলোকটার সাথে এমন ভাবে ধাক্কা লেগে গেলো। লোকটা আর একটু হলেই ট্রেনের প্যাদানিতে পড়ে যেতো যদি না নীল হাত বাড়িয়ে না ধরতো। ভদ্রলোক কোনো মতে নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে বললো,
– কিছু মনে করবেন না, আসলে আমারই একটু তাড়া ছিলো তাই…..
– না না সে কী, আমিই একটু অন্যমনস্ক ভাবে নামছিলাম। কিন্তু আপনার হয়তো ব্যথা লাগেনি তাই না?
– না কিন্তু হাত থেকে দুধের বোতলটা পড়ে গেছে।
– ইশ, কি একটা অবস্থা দেখুন তো। নিশ্চয় এই দুধ টুকু আপনার বাচ্চার জন্য?
– হুমমম, সে যাই হোক। আমি আরেকটা কিনে নিবো। আসলে এটার জন্যই একটু তাড়া। বাচ্চাটা কান্না করছে।
.
– মা নেই?
– নাহ্
.
নীল আর কোনো কথা বলে না। ভদ্রলোকটা ততক্ষণে দোকানের দিকে হাটা শুরু করেছে। নীল মনে মনে হিসাব মিলাতে থাকে, অবন্তী যদি পাশে থাকতো তাহলে তাদেরও ঠিক এমনই একটা বাচ্চা থাকতো না কী? বছর ছয় হলো মেয়েটা নেই পাশে। একবার চোখের দেখাও দেখেনি নীল।
.
একটা সিগারেট ধরিয়ে ইট পাথরের তৈরি বেঞ্চে বসে পড়ে নীল। লোকটা ততক্ষণে আরেকবার দুধের বোতল কিনে নিয়ে ট্রেনের দরজা দিয়ে উঠলো। তারপর পাশেরই একটা কামরায় ঢুকলো বোধহয়।কারণ লোকটা যে কামরায় গিয়ে বসলো নীলও ঠিক তার সামনেই বসে। সিটে একটা ছোট বাচ্চা বসে আছে। মেয়ে না ছেলে ঠিক বোঝা গেলো না। লোকটা কামরায় ঢুকতেই বাচ্চাটা বাবার কাছে চলে গেলো। নীল চোখ ফিরিয়ে নিলো সে দিক থেকে। হাতের সিগারেটটা ততক্ষণে ফুরিয়ে এসেছে। সেটা ফেলে দিয়ে আরেকটা সিগারেট ধরালো। কারণ এতক্ষণ সে একা আসলেও এই স্টেশনে আরও দুইজন ওর কামরায় উঠার কথা। তারা নিশ্চয় নীলের সিগারেট খাওয়াটাকে পছন্দ করবেন না। তাই এখন একটু বেশি করে খেলে মন্দ হবে না। তাছাড়া বসে বসে করার মতও তো কাজের কাজ নেই।
.
অবশেষে ট্রেন ছাড়া সময় হলো। বলায় বাহুল্য যে তিরিশ মিনিটে কাজ হলো না। তাড়াতাড়ি হাতের সিগারেটে শেষ বারের জন্য একটা টান দিয়ে সেটা পায়ের তলে পিষ্ট করেই উঠে পড়লো ট্রেনে। হুমম যে যাচ্ছি দুইজন উঠার কথা ছিলো তাড়া উঠেছে। দেখে স্বামী স্ত্রী বলেই মনে হলো, পাশাপাশি বসে আছে দুইজন। ভদ্রলোকের কোলে একটা দুই আড়াই বছরের বাচ্চা। সম্ভবত মেয়ে। মায়ের মুখটা কিন্তু দেখা গেলো না দরজা থেকে। নিজের সিটে বসতে বসতে হাসি মুখে একবার তাকালো ভদ্রলোকের দিকে। আর বসার পরই মেয়েটার দিকে তাকাতেই শরীরে যেনো একটা বিদ্যুৎ খেতে খেলো। মনে হলো শরীরের সব গুলো ইন্দ্রীয় যেনো ক্রমেই অকেজো হয়ে উঠছে। বুকের ভেতরটা কেউ যেনো আঘাত করছে বার বার। মেয়েটার চেহারা দেখে কিন্তু কিছু বোঝা গেলো না। কেবল তাকিয়ে রইলো অপলক দৃষ্টিতে। ঠোঁটটা কেঁপে চলছে অস্বাভাবিক ভাবে। যেনো কিছু বলতে চায়, কিন্তু পারলো না তার আগেই পাশে বসা ভদ্রলোকের দিকে ঢলে পড়লো ধীরে ধীরে। স্ত্রীর এমন অবস্থা দেখে ভদ্রলোক তাড়াতাড়ি বললেন,
– প্লিজ একটু হেল্প করুন। আমার স্ত্রীর এমন হয় মাঝে মাঝে, ব্যাগে দেখুন পানির বোতল আছে, একটু চোখে মুখে ছিটিয়ে দিন প্লিজ। আর সেখানেই দেখুন একটা ইঞ্জেকশন আছে। আপনি পুশ করতে পারেন?
.
নীল তখনও হতভম্ভের মত তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে। হিতাহিত জ্ঞান যেনো হারিয়ে গেছে। এখন কী করা উচিত সেই জ্ঞানটুকুও লোপ পেয়েছে।
.
– কী হলো বলুন আপনি পুশ করতে পারেন?
.
– হ্যাঁ….
.
ছোট্ট একটা শব্দ। কিন্তু নীলের মনে হলো এই হ্যাঁ শব্দটা উচ্চারণ করতে গিয়েও কয়েকবার গলাটা আটকে গেলো। মনে হলো সব কথাগুলো যেনো গলার মাঝ বরাবর এসে দলা পাকিয়ে গেছে। মুখ দিয়ে বের হবে না একটা শব্দও।
.
নীলের উত্তর পেয়ে লোকটা আরও উত্তেজিত হয়ে বললেন,
– বেশ আগে চোখে মুখে একটু পানি দিন। তারপর ইঞ্জেকশনটা পুশ করে দিন শিরায় আসলে আমি একটু ভয় পাই।
.
ব্যাগের চেইন খুলে পানির বোতল আর একটা ইঞ্জেকশন সাথে সিরিঞ্জ বের করলো নীল। তারপর লোকটার কথা মত চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে দিয়ে ডান হাতের শিরায় ইঞ্জেকশনটা পুশ করার পর ভদ্রলোক কৃতজ্ঞতার স্বরে বললেন,
.
– ধন্যবাদ, আসলে আমার স্ত্রীর এই রোগটা অনেক দিন ধরেই ছিলো। আগে কিন্তু এমনটা ছিলো না, কিন্তু ওর বাবা মানে আমার শ্বশুর হঠাৎ মারা যাবার পর এমনটা হয় মাঝে মাঝে। হঠাৎ কোনো অচেনা লোক দেখলেই হৃদযন্ত্রটা বেড়ে যায়। জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। চিকিৎসা চলছে। সেরেও গেছিলো পুরোপুরি। ডাক্তার বলেছিলো আর কোনো সমস্যা হবে না। হয়ও নি অনেক দিন থেকে। ধরুন প্রায় বছর খানেক তো হবেই। তবুও সাথে আমি ইঞ্জেকশনটা রাখি কোথাও বের হলে। বাসার দরকার পড়ে না কারণ আমি বাসাতে অচেনা কাউকে নিয়ে যাই না। কিন্তু ঠিক বুঝলাম না এতদিন পর হঠাৎ আবার এমন হলো……।
.
কথাটা শুনে ভদ্রলোকের কাঁধে মাথা দিয়ে রাখা অচেতন মেয়েটার দিকে একবার তাকালো। তারপর বাচ্চাটার দিকে তাকালো। একদম মায়ের মতই হয়েছে। প্রশ্ন করলো,
– মেয়ে?
ভদ্রলোক মাথা নাড়ালো। নীল আবারও প্রশ্ন করলো,
– নাম কী?
– অনু…..।
নীল বেরিয়ে আসে কামরা থেকে। ক্রমেই চোখদুটো ঝাপসা হয়ে উঠছে। মনে পড়ছে অবন্তীকে বলা কথাগুলো,,
– শোনো, আমাদের প্রথমে কিন্তু মেয়েই হবে বুঝলে?
নীলের এমন অদ্ভুত কথা শুনে বেশ লজ্জায় পেয়েছিলো অবন্তী। বলেছিলো,
– খুব জানো বুঝি?
– হুমম জানি তো।
– সব জানেন উনি। তা মেয়ের নামও কী ঠিক করে রেখেছেন নাকি?
– মেয়েটা একদম তোমার মত মিষ্টি দেখতে হবে। আর নাম রাখবো অনু।
.
কামরা থেকে বের হয়ে বেশ কিছুক্ষণ দাড়িয়ে রইলো দরজার ওপাশটায়। ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ নেই। আরও বেশ কিছুক্ষণ পর নীল শুনতে পেলো লোকটা বলছে,
এখন ভালো লাগছে অবন্তী? হঠাৎ কী হলো বলো তো। আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম।
.
স্ত্রীর কাছ থেকে কোনো উত্তরই হয়তো পেলেন না তিনি। তাই আবার বললেন,
“উনি নাকি পাশের স্টেশনেই নামবেন। তাই চলে গেলেন, তুমি কী সেখানে একটু শুয়ে থাকবে?”
.
এবারও কোনো নারীকণ্ঠের উত্তর শুনতে পেলো না নীল। কামরার দরজা থেকে সরে আসে। তারপর ট্রেনের দরজাটার কাছে যায়। হাতল ধরে দাড়িয়ে থাকে বেশ কিছুক্ষণ। মাঠের মাঝখান দিয়ে ছুটে চলছে ট্রেনটা। যেমন ছুটছে নীল। একা। ট্রেনটা হয়তো তার সঠিক গন্তব্য ঠিক খুজে পাবে। সেখান থেকে আবারও চলবে কোনো নতুন গন্তব্য আশায়। নীলও তেমনই। তবে প্রার্থক্য এতটুকুই ট্রেনটা একা নয় আর নীল একা। সম্পূর্ণ একা তার এই পথ চলা।
________ সমাপ্ত।
.
গল্পের নামঃ অবন্তী
.
লিখেছেনঃ Sajib Mahmd Neel

Leave a Reply

Your email address will not be published.