Technology - টেক গাইডOthers

গাড়ির প্রকারভেদ ছবি সহ ব্যাখ্যা (বিভিন্ন গাড়ির নাম)

pic types of cars/গাড়ির প্রকারভেদ
types of cars/গাড়ির প্রকারভেদ

গাড়ির প্রকারভেদ কেন প্রয়োজন :

গাড়ি কারো কাছে প্রয়োজন এর বস্তু হলেও কারো কাছে আবার সখ এর বস্তুও বটে।গাড়িকে আমরা আপাত দৃষ্টিতে শুধু যানবাহন হিসেবে দেখলেও এর আকার,কার্যকারিতা এবং প্রযুক্তিগত ভিন্নতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।মানুষের চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন।কেউ চায় গতি,কেউ চায় শক্তি,কেউ চায় রাজকীয় লুক আবার কেউ চায় পন্য বহন ক্ষমতা।গাড়ি দেখতে প্রায় একি মনে হলেও বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে রয়েছে অনেক ভিন্নতা।চলুন আজকে জেনে নেয়া যাক গাড়ি কত প্রকার হয়ে থাকে এবং এদের বৈশিষ্ট্য সমূহ।

গাড়িকে মুলত দুই ভাগে ভাগ করা যায় :

  • শক্তি ব্যবহার এর দিক থেকে।
  • আকার এবং বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে।

শক্তি ব্যবহার এর দিক থেকে গাড়ির প্রকারভেদ:

গাড়ি কোন ধরনের জ্বালানি শক্তি ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে তার ভিত্তিতে গাড়ি কে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।যেমন;
  • ডিজেল চালিত গাড়ি
  • পেট্রোল বা অকটেন চালিত গাড়ি
  • ইলেকট্রিক গাড়ি
  • হাইব্রিড গাড়ি

ডিজেল চালিত গাড়ি:

যে সকল গাড়িতে শক্তি উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহৃত হয় ঐ সকল গাড়িকেই  ডিজেল চালিত গাড়ি বলে।Chevrolet Cruze,GMC Terrain,
Chevrolet Silverado 2500HD,Jaguar F-PACE,BMW 328d,BMW X5 ইত্যাদি ডিজেল চালিত গাড়ির উদাহরণ।

পেট্রোল বা অকটেন চালিত গাড়ি:

বাংলাদেশের রাস্তায় চলা বেশিরভাগ গাড়িই মূলত পেট্রোল বা অক্টেন চালিত গাড়ি।বিখ্যাত কয়েকটি পেট্রোল বা অকটেন চালিত গাড়ি হচ্ছে Hyundai Accent,Kia Rio,Toyota Yaris,Nissan Versa ইত্যাদি।

ইলেকট্রিক গাড়ি:

যে গাড়িগুলো শক্তি হিসেবে শুধুমাত্র ইলেকট্রিসিটি ব্যবহার করে সেগুলিই মূলত ইলেকট্রিক গাড়ি।বিশ্বজুড়ে ইলেকট্রিক গাড়ি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।Tesla Model 3,Tesla Model S,Jaguar I-Pace,Nissan Leaf,BMW i3,Porsche Taycan ইত্যাদি বর্তমানে দুনিয়া কাঁপানো ইলেকট্রিক গাড়ির উদাহরণ।আমাদের রাস্তাগুলোয় ইলেকট্রিক গাড়ি খুব একটা দেখা না গেলেও ইলেকট্রিক বাই সাইকেলের ভালোই দেখা মিলে।

হাইব্রিড গাড়ি:

যে সকল গাড়ি জ্বালানি হিসেবে পেট্রোল এবং ইলেকট্রিসিটি দুটিই ব্যবহার করে তাদেরকেই হাইব্রিড গাড়ি বলে।PHV সুবিধা যুক্ত হাইব্রিড গাড়িগুলোতে আলাদা ভাবে চার্জ দেয়া যায়।হাইব্রিড গাড়ির দুনিয়ায় কয়েকটি বিখ্যাত গাড়ি হলো Toyota Prius,Hyundai Sonata Hybrid,Kia Niro,Hyundai Ioniq,Toyota RAV4,Lexus UX ইইত্যাদি।

আকার এবং বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে গাড়ির প্রকারভেদ :

গাড়ির আকার আকৃতি এবং এর থেকে পাওয়া সুবিধার ভিন্নতার ভিত্তিতে গাড়িকে কয়েকটা ভাগে ভাগ করা যায়।নিচে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার চেষ্টা করা হলো।
  • সেডান(Sedan)
pic sedan
pic sedan
ব্যক্তিগত গাড়ির মাঝে সেডাই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত এবং জনপ্রিয়।মুলত যে সকল গাড়ির ইঞ্জিন সামনে বসানো থাকে,আসন দুই সারিতে বিভক্ত থাকে,পিছনের কাঁচ আসনের সাথে ৪৫° বা আরো কম কোনে মিলিত থাকে এবং পিছনে মালামাল রাখার জন্য ট্রাংক থাকে সেই সকল গাড়িকেই সেডান গাড়ি বলা হয়। ১৯১২ সালেই প্রথম সেডান শব্দটি গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যাবহার করা হয়েছে।সেডান কারকে অনেক সময় সেলুন কারও বলাহয়ে থাকে।Toyota Camry,Dodge Charger,Nissan Altima,Toyota Avalon,Kia Stinger,Hyundai Sonata ইত্যাদি বর্তমান দুনিয়ায় জনপ্রিয় সেডান গাড়ি।
  • হ্যাচবেক(hatchback)
pic hatchback
pic hatchback

সহজ ভাষায় মজা করে বলতে গেলে সেডান গাড়ির পিছনের দিকটা যদি বোঁচা করে দেয়া হয় তবে হয়ে যাবে হ্যাচবেক কার।হ্যাচবেক গাড়ির পেছনের দরজা খুললেই পেয়ে যাবেন পন্য রাখার যায়গা।সাধারণত প্রথম সারির আসনের পরেই হ্যাচবেক গাড়িতে পন্য এবং যাত্রী দুটিই বহন করার মত কাস্টমাইজড করা যায়।Volkswagen Golf,Ford Focus,Seat Leon,Audi A3 Sportback,BMW 1 Series,Honda Civic,Toyota Probox ইত্যাদি জনপ্রিয় হ্যাচবেক গাড়ি।

  • স্পোর্টস(Sports)
pic sports car
pic sports car

স্পোর্টস কার দেখতে মুলত সেডান কার এর মতই।তবে সাধারণ সেডানের তুলনায় স্পোর্টস গাড়ির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স কম থাকে।চাকা এবং গাড়ির বডির মাঝেও খুব একটা ফাঁকা জায়গা থাকেনা।উচ্চগতির মাঝেও গাড়িকে রাস্তায় যাতে সহজে নিয়ন্ত্রণ করাযায় তাই গাড়ির এরোডায়নামিক শেইপ কে আরো নিখুঁত রাখা হয়।বাতাসের শক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য পেছনে ব্যাবহার করা হয় স্পয়লার।বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্পোর্টস কারে শুধুমাত্র দুটি সিট ব্যবহার করা হয়ে থাকে।Nissan GT-R,Toyota Supra,Mazda MX-5,Ferrari Roma,Aston Martin DB11 V8 ইত্যাদি বহুল আলোচিত স্পোর্টস কার।

  • কনভার্টিবল (convertible)
pic convertibles
pic convertibles

কনভার্টিবল গাড়িগুলো বিশেষত্ব হলো প্রয়োজনবোধে গাড়িগুলোর ছাদ পেছনে গুটিয়ে রাখা যায়।দুরন্ত গতিতে খোলা আকাশের নিচে একদিকে যেমন বাতাসের ছোঁয়া নেয়া যায়,একইভাবে প্রচন্ড রোদ বা বৃষ্টিতে ছাদ লাগিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উপভোগ করা যায় গাড়িগুলোতে।কয়েকটি বিখ্যাত কনভার্টিবল গাড়ি হলো BMW 2-Series,BMW Z4,Ford Mustang,Chevy Camaro,Mercedes-Benz C-Class,Audi A5,Porsche 911.

  • এমপিভি বা এমইউভি (MPV/MUV)
এমপিভি বা মাল্টি পারপাস ভেহিক্যাল গুলো মুলত সাইজে বড় হ্যাচবেক গাড়ি।এই গাড়িগুলোর সুবিধা হলো এগুলোর শেষের সারির আসন গুলো গুটিয়ে পন্য বহনের কাজ ও করা যায়।কয়েকটি বিখ্যাত এমপিভি হলো Volkswagen Touran, Renault Grand Scenic, Volkswagen Sharan, Ford S-Max,SEAT Alhambra,Peugeot Rifter.
  • এসইউভি (SUV)
pic suv
pic suv

এসইউভি বা স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল গাড়িগুলোর গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স বেশি থাকে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসইউভি গাড়িগুলো ফোর হুইল ড্রাইভ হয়ে থাকে।ফলে বুঝাই যাচ্ছে যে গাড়িগুলো অফরোডিং এর জন্য উপযোগী।যারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দূরপাল্লার ভ্রমণে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যাবহার করেন তারা এসইউভি গাড়ি ব্যাবহার করেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।কয়েকটি বিখ্যাত এসইউভি হলো Toyota Land Cruiser Prado,Honda CR-V,BMW X3,Nissan Rogue,Tata Harrier,Land Rover Discovery Sport,Land Rover Range Rover Evoque.

  • মিনিভ্যান (Mini van)
 আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ যে গাড়িগুলোকে মাইক্রো নামে চিনে থাকে সেই ধরনের গাড়িগুলোকেই মুলত মিনিভ্যান বলা হয়।এই ধরনের গাড়িগুলো সাধারণত অধিক যাত্রী বহন করার জন্যই ব্যবহার করা হয়ে থাকে।মিনিভ্যান এর কয়েকটি উদাহরণ হলো Nissan Quest,Ford Transit Connect,Kia Sedona,Honda Odyssey.
  • কমার্শিয়াল ভ্যান (Commercial Van)
এই গাড়িগুলো শুধুমাত্র বেশি পরিমাণ যাত্রী অথবা বেশি পরিমাণ পন্য বহনের জন্য ব্যাবহার করা হয়। এই গাড়িগুলোর ইঞ্জিন সাধারণত সামনে থাকে এবং ইঞ্জিনের জন্য খুবি কম জায়গা বরাদ্দ থাকে।টয়টার হায়েস বাংলাদেশে বহুল ব্যাবহৃত একটি কমার্শিয়াল ভ্যান।
এছাড়াও আকার এবং বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে গাড়িকে আরো অনেক গুলো ভাগে ভাগ করা যায়,যেমন; সাব কমপ্যাক্ট কার, কমপ্যাক্ট কার, স্টেশন ওয়াগন, ক্রসওভার ইত্যাদি।
গাড়ির দুনিয়া খুবই বিশাল।প্রতিনিয়তই এই দুনিয়ায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। একি ভাবে দিন দিন আরো বেশি বিশেষায়িত হচ্ছে গাড়ি জগৎ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.