Technology - টেক গাইড

ব্যবসা: বিকাশ এজেন্ট হওয়ার নিয়ম

আমাদের দেশে বর্তমানে বিকাশ একটি খুবি জনপ্রিয় ব্যবসা। অনেকেই বর্তমানে অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি বিকাশ এজেন্ট হিসেবে বাড়তি টাকা আয় করছেন।চাইলে আপনিও হতে পারেন বিকাশ এজেন্ট।বিকাশ এর এজেন্টশিপ সাধারণত দুই ভাবে নেয়া যায়। প্রথমত বিকাশে একাউন্ট করা নেই এমন একটি সিম কার্ড এর সাহায্যে আপনি বিকাশের ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করে নিতে পারেন অথবা বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর অফিস থেকে আবেদন এর মাধ্যমে বিকাশ এর এজেন্টশিপ নিতে  পারেন।এবার জেনে নেয়া যাক, বিকাশ এজেন্ট হওয়ার নিয়ম ও ব্যবসার যাবতীয় খুঁটিনাটি।

বিকাশ এর এজেন্ট ব্যবসা এবং শুরু করার নিয়মাবলী

১/জায়গা নির্বাচনঃ

বিকাশ ব্যবসায় দ্রুত লাভবান হতে হলে কিছু বিষয় অবশ্যই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।এ ক্ষেত্রে ব্যবসায় এর জায়গা বা স্থান নির্বাচন খুবি গুরুত্বপূর্ণ।লোকসমাগমপূর্ণ বা ব্যস্ত জায়গাকেই ব্যবসার জন্য নির্বাচন এ অগ্রাধিকার দিতে হবে।যেমন রাস্তার মোড়,হাঁট-বাজার, শপিংমল, বাসস্ট্যান্ড ইত্যাদি জায়গা বিকাশ এজেন্ট ব্যবসার জন্য আর্দশ।নিজের চলমান ব্যবসায় বা দোকানেই শুরু করেদিতে পারেন বিকাশের এজেন্ট ব্যবসা।

২/ইনভেস্টমেন্ট বা মূলধনঃ

খুবি অল্প পরিমান মূলধন নিয়েই বিকাশ ব্যবসা শুরু করা যায়।৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়েই এই ব্যবসা শুরু করা যায়।মূলধনের পরিধি মূলত নির্ভর করে ব্যবসায় এর আকার,অবস্থান,সাজসজ্জা এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ এর উপর।এলাকার ভিন্নতায় মূলধনের পরিমানে তফাৎ হতে পারে।উল্লেখ্য যে বিকাশ এজেন্ট  একাউন্ট এ মিনিমাম ৭ হাজার টাকা ব্যালেন্স থাকতে হবে।এজেন্টকে অবশ্যই প্রতিদিন নুন্যতম ২০০০ টাকা লেনদেন করতে হবে। তবে তা ক্যাশ আউট বা ক্যাশ ইন উভয় ভাবেই করাযেতে পারে।তাছাড়া বিকাশ এজেন্টদের দৈনিক কিছু পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট খোলার টার্গেট থাকে যা মোটেও কষ্টসাধ্য নয়।স্বল্প পরিমাণ মূলধন নিয়েই এই ব্যবসা শুরু করা যায় বিধায় বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

৩/ডকুমেন্টস বা কাগজপত্রঃ

বিকাশের এজেন্ট ব্যবসায় শুরু করার আবেদনে যে সকল কাগজপত্রের দরকার হবে তা হলোঃ-

  • ১) আপনার প্রতিষ্ঠানের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স।
  • ২) ট্রেড লাইসেন্স ধারির ৩ কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
  • ৩) জাতীয় পরিচয়পত্রের(NID)ফটোকপি।
  • ৪) টিন(TIN)সার্টিফিকেট এর ফটোকপি।
  • ৫) বিকাশ একাউন্ট করার জন্য একটি সক্রিয় বাংলাদেশী সিমকার্ড।
  • ৬) এবং সর্বশেষ আপনার ব্যবসায় এর সিল।

এর পরের ধাপটি হচ্ছে ট্রেইনিং। আপনার কাগজপত্রাদি যাচাই-বাছাই এর পর বিকাশ অথরিটি আপনাকে ট্রেইনিং এর ডেট দিবে।ট্রেনিং শেষ করার পঁচিশ থেকে তিরিশ দিনের মাঝে ই আপনার বিকাশ এজেন্ট সিমটি লেনদেনের জন্য চালু করে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে যদি আপনি বিকাশ ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি পূরণ করেন, তবে বিকাশ অথরিটি আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করে দেবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর অফিসে জমা দিলে তারা যাচাই-বাছাই এর পর আপনাকে এজেন্টশিপ দেয়ার উপযুক্ত মনে হলে তখন তারা এজেন্টশিপ দিয়ে দেবে।

৪/বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায় লাভের পরিমাণঃ

ভালো ভাবে এজেন্ট পরিচালনা করতে পারলে বিকাশ থেকে খুব সহজেই ভালো আউটপুট পেতেপারেন।প্রতিবার ক্যাশ ইন বা ক্যাশ আউটেই এজেন্ট হিসেবে আপনি পাবেন প্রতি হাজারে  ৪.১০ টাকা করে। সেই হিসেবে প্রতি লাখে একজন এজেন্ট পাবেন ৪১০ টাকা। এছাড়াও কোন কাস্টমার কে নতুন বিকাশ একাউন্ট খুলে দিতে পারলে আপনি কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন। প্রতিবার ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট কিংবা কোন কাস্টমারকে বিকাশ একাউন্ট খুলে দেয়ার সাথে সাথে আপনার প্রাপ্য কমিশন আপনার এজেন্ট একাউন্টে জমা হয়ে যাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। আপনার এজেন্ট একাউন্ট এর এ সকল টাকা আপনি ডিস্ট্রিবিউটর অফিসের কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো প্রকার চার্জ ছাড়াই নগদে সংগ্রহ করে নিতে পারবেন।ভালো পরিমাণ লেনদেন করতে পারলে বিকাশ থেকে প্রতিমাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।এজেন্ট ব্যবসায় ইনভেস্টের উপরও আয় নির্ভর করে।ভালো পরিমান আয় আশা করলে অবশ্যই ব্যবসায় শুরুর পর থেকেই কিছু নিয়মিত গ্রাহক তৈরি করে নেয়ার চেস্টা করতে হবে।

৫/বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ(app)

বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা কে আরো সহজ এবং নিরাপদ করার জন্য বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ ব্যাবহার করা খুবি গুরুত্বপূর্ণ। বিকাশ অ্যাপ এবং বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ দুইটি ভিন্ন অ্যাপ।এই অ্যাপের মাধ্যমে আপনি প্রতিদিনের লেনদেনের একটি সুন্দর তালিকা পাবেন।এপ্লিকেশনটি ইন্সটল করার পর বিকাশ অথরিটি থেকে এসএমএস এর মাধ্যমে ভেরিফিকেশন করা হবে এবং এরপর আপনি খুব সহজেই আপনার বিকাশ এজেন্ট পিন দিয়ে লগইন করতে পারবেন।অ্যাপটি আপনি বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষাতেই ব্যবহার করতে পারবেন।এর অন্যতম সুবিধা হচ্ছে আপনার করা সর্বশেষ লেনদেন টি হোম স্ক্রিনে দেখতে পারবেন, যা ব্যস্ত সময়ে খুবই কাজে দেয়।এছাড়া বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ ব্যবহারের ফলে বিগত লেনদেন গুলোর তালিকা খুব সহজে পাওয়া যাবে। এছাড়াও বিকাশ এজেন্ট অ্যাপের ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি পেয়ে যাচ্ছেন বিকাশ এর B2B সুবিধা। বিকাশ লিমিটেড এর সাথে বিকাশ এজেন্টদের ব্যাবসায়িক লেনদেনের একটি পদ্ধতিই হলো বিকাশ এর B2B সেবা।বর্তমান বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ এ DSO নাম্বার এর অটোফিলাপ সুবিধা থাকায় খুব সহজেই আপনার বিকাশ ফান্ড কে নগদ বা ক্যাশ টাকা করে নিতে পারেন।বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা কে ত্বরান্বিত করতে হলে এবং লাভের পরিমাণ বাড়াতে হলে অবশ্যই বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়িরা প্রতি এক হাজার টাকা USSD কোড *২৪৭# ডায়াল করে ক্যাশ ইন বা ক্যাশ আউট করলে কমিশন পান ৪.১০ টাকা এবং বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করলে পান ৪.৫০ টাকা।

pic বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে
pic বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে

সাবধানতাঃ

  • ১)প্রতি লেনদেন সম্পন্ন করার পরে অবশ্যই ব্যালেন্স চেক করুন।
  • ২)নাম্বার এর কোথাও ভুল হচ্ছে কিনা বার বার চেক করুন।
  • ৩)প্রয়োজন হলে বিকাশ অথরিটির নীতিমালা অনুযায়ী গ্রাহকের কাছথেকে সঠিক কাগজপত্র বুঝে নিন।
  • ৪)পিন নাম্বার সব সময় গোপন রাখার চেস্টা করবেন।
  • ৫)অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তে দ্রুত বিকাশ সার্ভিস পয়েন্ট এ যোগাযোগ করুন।
  • ৬)টাকা বুঝে নেয়ার পরেই লেনদেন করুন।

বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠী বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে লেনদেন করে থাকে।এর মাঝে বিকাশ এর বিস্তৃতি সর্বাধিক।ফলে দৈনিক কোটি কোটি টাকার লেনদেন বিকাশে হয়ে থাকে।আর এই সকল লেনদেন হয়ে থাকে বিকাশ এজেন্টদের মাধ্যমেই।আমাদের আশেপাশের অনেকেই বর্তমানে বিকাশের এজেন্ট ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।আবার অনেকেই তাদের চলমান ব্যবসায়ের পাশাপাশি বিকাশ এজেন্ট হিসেবে করছেন বাড়তি আয়।এতে করে একদিকে যেমন তারা ব্যাক্তিগত ভাবে লাভবান হচ্ছেন তেমনি ভূমিকা রাখছেন দেশের অর্থনীতিতে।এই আর্টিকেল থেকে আশাকরি বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা পাওয়া গেছে।আপনি যদি শ্রম,মুলধন,মেধার সুষ্ঠু ব্যবহার এবং উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে বিকাশ এর এজেন্ট ব্যবসা শুরু করেন তবে অবশ্যই লাভবান হবেন আশা করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *