Travelling - ট্রাভেল গাইডOthers

আমেরিকান ড্রিম:ইউএসএ বা আমেরিকা যাওয়ার উপায় সমূহ

pic বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার উপায় সমূহ
pic বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার উপায় সমূহ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হচ্ছে আমেরিকা যাওয়ার উপায় সমূহ নিয়ে।শুধু বাংলাদেশ নয়,পৃথিবীর আরো অনেক দেশের মানুষের কাছেই আমেরিকার যাওয়া একটি সপ্নের মতো।তাইতো পুরো বিশ্বব্যাপী “আমেরিকান ড্রিম” শব্দটি প্রচলিত।এক সময় বাংলাদেশ থেকে অনেকেই ডিভি লটারি বা ডাইভারসিটি লটারি সিস্টেমের মাধ্যমে অনায়াসেই আমেরিকা পাড়ি জমিয়েছেন।সাথে পেয়ে গেছেন ইনস্ট্যান্ট গ্রিন কার্ডও।গ্রীনকার্ড ধারীরা আবার নিয়ে যেতে পারতো স্ত্রী-সন্তান,পিতা-মাতা,বাই-বোন এবং ভাই-বোনের ২১ বছরের নিচের অবিবাহিত সন্তানদেরও।ডিভি লটারিতে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হিসেবে ১২ বছরের পড়াশোনার ব্যাকগ্রাউন্ডই যথেষ্ট ছিল।

পুরো পৃথিবী থেকে বর্তমানে প্রতি বছর ৫৫ হাজার লোক ডিভি ভিসার মাধ্যমে আমেরিকান গ্রীন কার্ড ধারি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।বাংলাদেশের জন্য ডিভি লটারি সিস্টেম বর্তমানে বন্ধ আছে।কিন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এখনো এই ডিভি লটারি সিস্টেমে মানুষ “আমেরিকান ড্রিম” পুরনের সুযোগ পাচ্ছে।এখনো আমেরিকায় বসবাসকারী বাঙালিদের বেশিরভাগই হয় ডিভি লটারি সিস্টেমে আমেরিকা গিয়েছে অথবা এই মাধ্যমে চেইন-মাইগ্রেশন করে গিয়েছে।

ডিভি লটারি সিস্টেম বাংলাদেশের জন্য বর্তমানে বন্ধ থাকলেও মানুষ যে একেবারেই বাংলাদেশী হিসেবে আমেরিকা যেতে পারছেনা তা কিন্তু নয়।বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়া কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়।চলুন আজকে জেনে নেয়া যাক বাংলাদেশী হিসেবে “আমেরিকান ড্রিম” পূরণ করার জন্য আমাদের সামনে কোন কোন দরজা এখনো খোলা রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার বৈধ উপায় সমূহ:

চলুন প্রথমেই জেনে নেয়া যাক বৈধ উপায়ে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার উপায় সমূহ সম্পর্কে।

১)স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা:

পড়াশোনা করার জন্য আমেরিকা পুরো বিশ্বের মধ্যেই বেস্ট চয়েস।প্রতিবছর পড়াশোনা করার জন্য পুরো পৃথিবী থেকে হাজার হাজার স্টুডেন্ট আমেরিকায় স্টুডেন্ট ভিসায় আসছে।পড়াশোনার জন্য দেশটিতে রয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়।বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় পড়াশোনার জন্য স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনে যেসকল শর্ত পূরণ করতে হয় তা হল :

  • কমপক্ষে এইচএসসি পাশ বা সমমানের সার্টিফিকেট।
  • ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা।
  • বিগত ছয় মাসে পরিবারের যে কারো একাউন্টে চল্লিশ লক্ষ টাকা জমা থাকার স্টেটমেন্ট অথবা সম পরিমাণ অর্থের এফডিআর।

এই শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে যে কেওই স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবে।এছাড়া পড়াশোনায় ভালো হলে এবং ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা থাকলে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে শতভাগ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করা যেতে পারে।এক্ষেত্রে সুবিধা হল ব্যাংক ব্যালেন্স স্টেটমেন্ট এর প্রয়োজন পড়ে না।

২)টুরিষ্ট ভিসায় বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা:

বাংলাদেশ থেকে টুরিস্ট ভিসায়ও আমেরিকা যাওয়া যায়।বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা টুরিস্ট ভিসায় যাওয়ার জন্য যেসকল শর্ত পূরণ করতে হয় তা হল:

  • পাঁচ থেকে ছয়টি দেশে ভ্রমণ এর রেকর্ড। 
  • ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা।
  • ভ্রমণ ব্যয় পরিচালনার সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক ব্যালেন্সের স্টেটমেন্ট।
  • স্থায়ী ঠিকানার প্রমান পত্রাদি।

আমেরিকার টুরিস্ট ভিসার জন্য প্রাথমিকভাবে এই শর্তগুলো পূরণ করাই যথেষ্ট।ভিসার জন্য ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় আপনার কথাবার্তার উপর ভিত্তি করেই তারা আপনার সোশ্যাল স্ট্যাটাস এবং আপনার উদ্দেশ্যের সত্যতা যাচাই করে নেবে।তবে এক্ষেত্রে তারা আপনার ব্যক্তিত্বের উপর ভিত্তি করে অন্যান্য ডকুমেন্টও চাইতে পারে।

৩)ইনভেস্ট ভিসায় বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা :

আমেরিকা একটি মুক্ত অর্থনীতির দেশ।চাইলে আপনিও পারেন দেশটিতে বিনিয়োগ করতে।আমেরিকায় ইনভেস্ট ভিসায় যাওয়ার মুলত দুটি ধরন রয়েছে।প্রথমত পাঁচ বছরের জন্য দশ কোটি টাকা বিনিয়োগ সাপেক্ষে পেতে পারেন স্ব-পরিবারে আমেরিকান গ্রীন কার্ড।এক্ষেত্রে সব কিছু প্রসেসিং করতে দুই বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো E2-ভিসা।এই পদ্ধতিতে এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করেই ভিসা পাওয়া যাবে।আপনাকে একজন ব্যাবসায়ী হিসেবেই আমেরিকায় বসবাস করতে হবে।এই ভিসায় কখনোই আমেরিকার গ্রিন কার্ড পাওয়া যাবেনা।নিয়মিত ব্যাবসায়ী হিসেবে টেক্স প্রদান করতে হবে এবং প্রতি দুই বছর পর পর ভিসা রি-নিউ করে নিতে হবে।

৪)ইনভাইটেশন লেটারের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা :

আমেরিকাকে আমরা সবাই মোড়ল দেশ হিসেবেই চিনে থাকি।বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এই দেশে বসেই নেয়া হয়।দেশটিতে পুরো বছর জুড়েই চলতে থাকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্স।কনফারেন্সগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য ইনভাইটেশন লেটার সংগ্রহ করেও বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়া সম্ভব।এক্ষেত্রে প্রথম কাজ হলো অনলাইনের মাধ্যমে কনফারেন্সগুলো সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া এবং কনফারেন্সে যোগদান করার জন্য অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করা।এর পর ইনভাইটেশন লেটার তারা আপনার মেইলে পাঠিয়ে দিবে।এর পর এম্বাসী আপনার যোগ্যতা যাচাই সাপেক্ষে আপনাকে ভিসা প্রদান করবে।

আমেরিকার ভিসা হাতে পেয়ে আমেরিকা গিয়ে দ্রুত গ্রিন কার্ড পাওয়ার সবচাইতে সহজ উপায় হলো কোন আমেরিকান সিটিজেনকে বিয়ে করে ফেলা।এছাড়া জনপ্রিয় তারকারা দেশে বসেই এক্সট্রা অর্ডিনারী পার্সোনালিটি হিসেবে আমেরিকান গ্রিন কার্ড এর জন্য আবেদন করতে পারেন।আপনার যদি যোগ্যতা থেকে থাকে তবে আমেরিকা যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবেও।

এছাড়াও অনেকে আমেরিকা যাওয়ার জন্য বেছে নেয় অবৈধ পথ।যেমন চুক্তি ভিত্তিক বিয়ের মাধ্যমেও অনেকে আমেরিকা যাওয়ার চেস্টা করেন।কিন্তু এতে সফলতার সম্ভাবনা থাকলেও খরচ হয়ে যায় মোটা অংকের টাকা।আবার অনেকে চার থেকে পাঁচ টা দেশের বর্ডার পাড়ি দিয়ে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে আমেরিকা যাওয়ার চেস্টা করেন।এতে টাকা হারানোর সম্ভাবনা তো থাকেই সাথে থাকে জীবন হারানোর সম্ভাবনাও।তাই আমেরিকা যাওয়ার জন্য অবৈধ পথ অবলম্বন করা মোটেই উচিৎ নয়।

স্বপ্নের এই দেশটিতে বসবাসকারী সবাই সমান ক্ষমতার মালিক।ধুলাবালি নেই,ডাস্টবিনের পঁচা গন্ধ নেই,চাঁদাবাজি নেই,আমলাতান্ত্রিক হয়রানি নেই।তাইতো মানুষ আশায় থাকে আমেরিকান ড্রিম পূরনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.