Travelling - ট্রাভেল গাইডOthers

সৌদি আরব থেকে ইউরোপ বা সৌদি থেকে সেনজেন ভুক্ত দেশ সমূহে যাওয়ার উপায়

pic how to go Europe
pic how to go Europe
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।প্রবাসী ভাইদের অনেক বড় একটি অংশের কর্মস্থল সৌদি আরবে।কিন্তু থাকা-খাওয়া সমস্যা এবং আয়-রোজগার এর বিভিন্ন সমস্যার কারনে অনেক প্রবাসী ভাই পাড়ি জমাতে চান ইউরোপের দিকে।সৌদি আরব হতে ইউরোপ গিয়ে বর্তমানে অনেকেই প্তিষ্ঠিত হয়েছেন।সৌদি থেকে ইউরোপ বা সৌদি থেকে সেনজেন দেশসমূহে বৈধ-অবৈধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন ভাবেই যাওয়ার চেস্টা করা যায়।

সৌদি আরব থেকে ইউরোপ যাওয়ার কয়েকটি উপায় সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলোঃ

মহাদেশ হিসেবে ইউরোপ অনেক ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সমৃদ্ধ একটি মহাদেশ।শুধুই কি তারা ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সমৃদ্ধ,অর্থনীতিতেও তারা নিজেদেরকে করে তুলেছে অনন্য।মুলত অনেকগুলো যুদ্ধের মধ্য দিয়েই ইউরোপ বিপ্লব বা সমৃদ্ধি অর্জন করেছে।
কৃষি, শিল্প,প্রযুক্তি,অর্থনীতি সব দিকে ই ইউরোপ এর বেশিরভাগ দেশ উন্নত।দেশগুলোর মানুষের জীবন-যাপন ও আয়-রোজগার খুবি উন্নত।এই জন্য অনেকেই ইউরোপ এ পাড়ি জমানোর স্বপ্ন দেখে।
অন্যান্য দেশের মতো সৌদি আরব থেকেও মানুষ আধুনিক ও উন্নত জীবন যাপনের উদ্দেশ্যে ইউরোপ যাচ্ছে।অনেক সময় মানুষ সঠিক উপায় না বুঝেই এই স্বপ্ন পূরণ করতে বেরিয়ে পড়েন।কেউ কেউ সফল হলেও আবার অনেকেই হচ্ছেন প্রতারিত।
সঠিক এবং বৈধ উপায় অবলম্বন করলে সৌদি আরব থেকেও ইউরোপ যাওয়া সম্ভব।

সৌদি আরব থেকে ইউরোপ যাওয়ার বৈধ উপায় সমূহঃ

সৌদি আরব থেকে ইউরোপে মূলত তিনটি বৈধ উপায়ে যাওয়া যায়।নিচে উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো
  •  Tourist visa :

টুরিস্ট ভিসায় সৌদি আরব হতে ইউরোপ যাওয়া যায়।সাধারনত নব্বই দিন বা তিন মাস মেয়াদে কোন দেশে ঘুরতে যাওয়ার জন্য যে ভিসা ইস্যু করা হয় তাকেই টুরিস্ট ভিসা বলে।এ ক্ষেত্রে আপনি যদি সৌদি আরব হতে ইউরোপ টুরিস্ট ভিসায় যেতে সক্ষম হন তবে আপনার প্রথম কাজ হবে সুবিধাজনক দেশে গিয়ে নব্বই দিনের ভিতর ই কোন কাজ যোগাড় করে নেয়া।

  • Work permit visa :

ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় সৌদি আরব হতে ইউরোপ যাযেতে হলে প্রথমেই ইউরোপ এর বিভিন্ন জব পোর্টালগুলো থেকে পছন্দ মতো চাকরির জন্য আবেদন করতে হবে।মুলত কোন দেশে চাকরির জন্য যে ভিসা দেওয়া হয় তাই হলো ওয়ার্ক পারমিট ভিসা। এই ভিসায় খুব সহজেই ইউরোপ এর স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া যায়।ইউরোপ এর দেশগুলোতে প্রায় সব সময় ই শ্রমিক এর শুন্যতা থাকে।আমরা নিজেরা চেস্টা না করে দালাল এর কাছে যাই বলেই পদ্ধতিটি আমাদের কাছে কঠিন মনে হয়।এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যাক্তিরা অগ্রাধিকার পায়।

  • Student visa :

স্টুডেন্ট ভিসায় সৌদি আরব হতে ইউরোপ যাওয়ার একটি বৈধ মাধ্যম হলেও এটি খুবি কম কার্যকর একটি উপায়।মুলত অন্য দেশে পড়ালেখা করতে যাওয়ার জন্য যে ভিসা ইস্যু করা হয় সে ভিসাকেই স্টুডেন্ট ভিসা বলা হয়।আপনা যদি স্নাতক করা থাকে তবে আপনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য এই ভিসায় এপ্লাই করতে পারেন।
আমরা সব সময়ই চেস্টা করবো উপরের আলোচিত তিনটি উপায় ছাড়া অন্য কোন উপায় এ ইয়োরোপে যাওয়ার চেস্টা না করতে।কারন অনেকেই না জেনে না বুঝে অন্ধভাবে অন্য কাউকে টাকা দিয়ে দেয় স্বপনের ইউরোপ ভিসার জন্য।

অবৈধ ভাবে ইউরোপ যাওয়ার পর বৈধ হওয়ার উপায়ঃ

অবৈধ ভাবে কোন দেশে যাওয়া বা যাওয়ার চেস্টা করা কোন অবস্থাতেই উচিৎ নয়।এতে করে একদিক যেমন সময়,অর্থ, জিবন বিপন্ন হতে পারে একি ভাবে দেশের ভাবমূর্তি ও ক্ষুন্ন হয়।এতে সামগ্রিক ভাবে দেশেরই ক্ষতি হয়।
তারপর ও যদি ইতিমধ্যে ইউরোপ এ অবৈধ ভাবে অবস্থান করেন তবে আপনার প্রথম কাজ হবে সহজেই বৈধ হওয়া যায় এমন একটি দেশে যাওয়ার চেস্টা করা।
আপনি যদি কোন একটি শরণার্থী শিবিরে যেতে পারেন তবে বৈধ হওয়াটা আপনার জন্য সহজ হবে।শরণার্থী শিবিরে গিয়ে আপনি এমন একটি সমস্যার কথা জানাবেন যে, আপনি উক্ত সমস্যার কারনে দেশে যেতে পারছেন না।
আপনি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারলে শরণার্থী শিবিরে আপনার থাকার এবং খাবারের ব্যাবস্থা হয়ে যাবে।শরণার্থী শিবিরে দুই থেকে তিন বছর অবস্থান করার পর আপনি TR বা Temporary residence এর জন্য এপ্লাই করতে পারবেন।
এর পাঁচ থেকে দশ বছর পর আপনি PR বা permanent residence এর জন্য আবেদন করে ইউরোপ এর স্থায়ী বাসিন্দা হতে পারবেন।

ইউরোপ যাওয়ার পর করনীয় :

উল্লেখিত উপায়গুলোর যেকোন একটির মাধ্যমে যদি আপনি ইউরোপ এ পৌঁছাতে পারেন তবে আপনার ইউরোপ স্বপনের প্রাথমিক কাজ শেষ।
ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যদি যেতে পারেন তবে আপনার ঝামেলা আর নেই বললেই চলে।আর যদি টুরিস্ট অথবা স্টুডেন্ট ভিসায় যান তবে আপনার প্রথম কাজ হবে নব্বই দিনের ভিতর ই একটা কাজের ব্যাবস্থা করা।

ইউরোপ এ চাকরি পাওয়ার উপায়ঃ

বেশির ভাগ মানুষ দেখাযায় যে ইউরোপ এ চাকরি পাওয়ার জন্য বড় এমাউন্ট এর টাকা দালালের পিছনে খরচ করে।এই ভাবে অনেকে চাকরি পেলেও ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী ভাইদের সংখ্যাই বেশি।প্রথমত এটি একটি অবৈধ কাজ।ফলে আপনার টাকা যদি বিফলে যায় তবে বিচার না পাওয়ার ও একটা সম্ভাবনা থাকে।এক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় ই দেখা যায় যে ভিক্টিম এর সময় এবং টাকা দুটিই গচ্ছা যায়।
এই জন্য সব থেকে ভালো হয় নিজে নিজেই চাকরি খুজে নেওয়া অথবা পরিচিত কারো সাহায্য নেওয়া।ফলে টাকাও নষ্ট হবেনা আবার কাগজ-পত্র এবং সকল নথিও বৈধ ভাবে সংরক্ষিত থাকবে।এতে আপনার স্থায়ী হতেও সময় কম লাগবে।
আরো দেখুনঃ

ইউরোপ এর Temporary Residence Card বা TR পাওয়ার উপায়ঃ

ইউরোপ এর বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রেই TR এর জন্য আবেদন এবং TR পাওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় একি।ইউরোপ এর যেই দেশেই আপনি যাবেই ওই দেশে কাজ পাওয়ায় পর আপনি নিশ্চয়ই থাকার জন্য বাসাভাড়া নিবেন।ইউরোপ এ বাসাভাড়া নেয়ার পর একটি রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দেওয়া হয়।TR পাওয়ার জন্য প্রথমেই দরকার হবে এই রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার এবং বাড়িভাড়ার প্রমান পত্র।বাসার মালিকের কাছ থেকেই এইসব পেয়ে জাবেন।অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সমূহ যেমন, তারিখ নাম ঠিকানা গুলো চেক করে নিবেন।
এর পর রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার,বাড়িভাড়ার প্রমান-পত্র এবং আপনার চাকরির এপয়েন্টম্যান্ট লেটার নিয়ে আপনাকে যেতে হবে উক্ত দেশে অবস্থিত ওই দেশের ইমিগ্রেশন অফিসে।ইমিগ্রেশন অফিসে উক্ত ডকুমেন্টস সাবমিট করতে হবে।এর পর ইমিগ্রেশন অফিস আপনাকে ইউনিক ট্যাক্স নাম্বার দিবে।কোন কোন দেশে ট্যাক্স নাম্বার সাথে সাথে দিলেও অনেক দেশে এই নাম্বার পেতে কিছুদিন সময় লাগে।ট্যাক্স নাম্বার পাওয়া মানেই হলো আপনি ইতিমধ্যেই আপনি উক্ত দেশের নাগরিক হিসেবে ট্যাক্স দেয়া শুরু করে দিয়েছেন।এবার আপনি ভিসা অফিসে গিয়ে আপনার ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারেন।
এবার আপনার TR এর জন্য আবেদন এর পালা।আপনাকে ভিসা অফিসে ফিংগার প্রিন্ট রেজিস্ট্রেশন এর জন্য অ্যাপয়েন্টম্যান্ট নিতে হবে।এক্ষেত্রে আপনার যাবতীয় কাগজ-পত্র ভিসা অফিসে জমা দিতে হবে।ফিংগার প্রিন্ট দেওয়ার ডেট পেতে দেশ ভেদে আঁট থেকে দশ মাসের মত সময় লাগতে পারে।আপনার ই-মেইল অথবা আপনার বাসার ঠিকানায় ভিসা অফিস চিঠি পাঠাবে।ফিংগা প্রিন্ট দেওয়া সম্পন্ন হলে আপনাকে দেওয়া হবে Temporary Residence Card এবং আপনি হয়েযাবেন উক্ত দেশের অস্থায়ী নাগরিক।

ইউরোপ এর Permanent Resident Card  বা PR পাওয়ার উপায়ঃ

TR পাওয়ার মাধ্যমেই আপনি কিন্তু উক্ত দেশের নাগরিক হয়ে গেছেন।এর পর দেশভেদে পাঁচ থেকে দশ বছর নিয়মিত ট্যাক্স দেওয়ার পর আপনি স্থায়ী বাসিন্দা বা Permanent Residentship এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *