Ebook Review - বই রিভিউ

[PDF] পদ্মা সেতু বই রিভিউ

মোঃ এনায়েত চৌধুরী

নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর বিভিন্ন দিক নিয়ে লেখা প্রথম বই এটি।বইটির নাম দেখে প্রথমে সবারই মনে হতে পারে এটি একটি বোরিং বই হতে চলেছে।এই ধরনের নামের বই মানুষ সাধারণত

কম পড়ে।এই বই টি পড়া শুরু করেই বইটি সম্পর্কে ধারণা সম্পূর্ণ বদলে যাবে।এই ধরনের তথ্য নির্ভর বইগুলো সাধারণত এতটা প্রাঞ্জল ও সাবলীল হয় না।বইটিতে সবকিছু খুবি সাবলীল ভাবে প্রাঞ্জলতার সাথে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বইটির লেখার প্রথমেই সেতু নির্মাণের ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা করেন,তারপর তিনি এক এক করে সেতুর প্রকারভেদ, পদ্মা নদীর বিশেষত্ব, গতিপথ পরিবর্তনের ইতিহাস,কেন প্রতি ২৬ বছর সময়ের ব্যবধানে এর সর্পিল-সরল-সর্পিল-সরল চক্র সম্পাদন করে, পদ্মা সেতু কেন একটি ট্রাস সেতু হতে চলেছে ইত্যাদি খুবি সুন্দর এবং আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরেছেন।সবধরনে পাঠক যাতে ব্যাপার গুলো সহজেই বুঝতে পারেন সেই বিষয়ে লেখক যথেষ্ট সচেতন ছিলেন।
লেখক মাটির তরল অবস্থায় আচরণ বা লিকুইফ্যাকশন বিষয় টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “ধরি আধা গ্লাস দুধের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ বার্লি এমনভাবে ঢেলে দেয়া হলো যাতে বাকি অর্ধেক গ্লাস বার্লি দিয়ে পূর্ণ হয়ে যায়। চামচ দিয়ে না নেড়ে বা গ্লাসটাকে একটুও না নাড়িয়ে রেখে দিলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বার্লি দুধের ওপরে ভেসে থাকবে। যেই না গ্লাসকে ডানে-বামে (অর্থাৎ মাটির সাথে সমান্তরালে বা আনুভূমিকভাবে; যেভাবে ভূমিকম্পের সময় ঘরবাড়ি নড়তে থাকে) নাড়াতে শুরু করা হবে তখনই বার্লি নিচের দুধের সাথে মিশে গিয়ে তরলের মতো আচরণ শুরু করবে। মাটি হচ্ছে অনেক দিক দিয়ে এমন বার্লির মতো। ভূমিকম্প আসার আগ পর্যন্ত কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কম্পন একবার শুরু হলে তা নিচের পানির সাথে মিশে গিয়ে তরলের মতো আচরণ শুরু করবে।”
লেখক এর পরের অংশে Pre-Feasibility এবং Feasibility Study নিয়ে আলোচনা করেছেন।পদ্মা সেতুর নির্মাণের জন্য যে চারটি জায়গা প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় আনা হয়, সম্ভাব্য সুবিধা-অসুবিধাগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা এবং এইসব কিছুই বিচার বিবেচনা করে চারটি স্পটের মধ্য থেকে কেনই বা মাওয়া-জাজিরাকেই  চূড়ান্তভাবে বেছে নেয়া হয়েছে এইসব বিষয়ের বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করেছেন।
‘সেতুর অবস্থান ও পুরো প্রকল্পের খুঁটিনাটি’ অধ্যায়টিতে যদি পাঠক নজর দেয় তবে পদ্মা সেতু যে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রকৌশলগত এবং আরো বিভিন্ন দিক থেকে সবচেয়ে বড় ও চ্যালেঞ্জিং স্থাপনা হতে যাচ্ছে তা খুব সহজেই উপলব্ধি করতে পারবেন। এ অধ্যায়টিতে ব্যাক্তিগতভাবে আমাকে সবথেকে বেশি আকর্ষণ করেছে পাইলিংনিয়ে করা আলোচনা টুকু।Racked(Inclined at 1H:6V) steel driven pile নির্বাচনের কারণ বর্ণনাকরে ভূমিকম্প সহনীয় করার জন্য ‘Pendulum Bearing’ ব্যবহারের যে সহজ বর্ণনা দেয়া হয়েছে তা খুবি সহজ এবং প্রাঞ্জল ছিলো।বেশিরভাগ লেখকই টেকনিক্যাল বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাঞ্জলতা হারান।
নদী শাসনে জিওব্যাগের ব্যবহার লেখক খুবি সুন্দর ভাবে তুলেধরেছেন।
এই বইটিতে খুবিকম সংখ্যক প্রিন্টিং মিস্টেক এবং একটি তথ্যগত ভুল (পিলারের সংখ্যা ৪৩ এর জায়গায় ৪২টি বলা হয়েছে) ছাড়া তেমন কোন ভুল চোখে পড়েনি।
সবশেষে এটাই বলবো যে,পদ্মা সেতুতে ব্যবহার হওয়া বিভিন্ন জটিল প্রযুক্তি এবং এই সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সব ধরনের পাঠক যাতে সহজেই পড়ে বুঝতেপারে সেই বিষয় লেখক মাথায় রেখেই বইটি লিখেছেন।এটি নিঃসন্দেহে বলা যায় যে বইটি সংগ্রহ করে পাঠক কোনভাবেই নিরাশ হবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.